অন্তর্বাসে এই ধরনের দাগকে সাধারণ স্রাব ভেবে ভুল করবেন না! এটি কীসের ইঙ্গিত হতে পারে?
অনেক নারীই অন্তর্বাসে সাদা, হলুদাভ বা ঘন ধরনের দাগ দেখতে পান। বেশিরভাগ সময় এটি স্বাভাবিক যোনি স্রাবের অংশ হতে পারে। কিন্তু স্রাবের রং, ঘনত্ব, গন্ধ বা পরিমাণে হঠাৎ পরিবর্তন হলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়।
বিশেষ করে এর সঙ্গে চুলকানি, জ্বালাপোড়া, ব্যথা বা অস্বাভাবিক গন্ধ থাকলে কোনো ধরনের সংক্রমণ বা অন্য সমস্যার সম্ভাবনা থাকতে পারে।
স্বাভাবিক যোনি স্রাব কেমন?
যোনি থেকে কিছু পরিমাণ স্রাব বের হওয়া নারীদের শরীরে স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। এর পরিমাণ ও ঘনত্ব মাসিক চক্রের বিভিন্ন সময়ে পরিবর্তিত হতে পারে।
স্বাভাবিক স্রাব সাধারণত:
- স্বচ্ছ বা সাদাটে হতে পারে
- খুব তীব্র দুর্গন্ধ থাকে না
- সবসময় একই রকম ঘন হয় না
- মাসিকের আগে বা ডিম্বস্ফোটনের সময় পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে
শুকিয়ে গেলে এই স্রাব অন্তর্বাসে সাদা বা হালকা হলুদ দাগ রেখে যেতে পারে। তাই শুধু দাগ দেখেই রোগের সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।
কখন অস্বাভাবিক স্রাবের দিকে নজর দেবেন?
যদি স্রাবের সঙ্গে নিচের কোনো পরিবর্তন দেখা যায়, তাহলে সতর্ক হওয়া উচিত:
১. ঘন সাদা স্রাব ও তীব্র চুলকানি
সাদা, ঘন বা দইয়ের মতো স্রাবের সঙ্গে যোনিপথে চুলকানি, লালচে ভাব বা জ্বালাপোড়া থাকলে যোনিপথের ছত্রাকজনিত সংক্রমণ (vaginal candidiasis) হতে পারে।
তবে শুধু স্রাবের চেহারা দেখে নিশ্চিতভাবে রোগ নির্ণয় করা যায় না।

২. দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব
যোনি স্রাবে হঠাৎ তীব্র বা অস্বাভাবিক গন্ধ তৈরি হলে সেটিকে স্বাভাবিক বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়। কিছু ধরনের সংক্রমণের সঙ্গে দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব দেখা যেতে পারে।
৩. হলুদ বা সবুজাভ স্রাব
স্রাবের রং যদি স্পষ্টভাবে হলুদ, সবুজ বা অন্য অস্বাভাবিক রঙের হয়ে যায় এবং এর সঙ্গে জ্বালাপোড়া, ব্যথা বা দুর্গন্ধ থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
৪. স্রাবের সঙ্গে রক্ত
মাসিকের স্বাভাবিক সময়ের বাইরে স্রাবে রক্ত দেখা গেলে কারণটি চিকিৎসকের মাধ্যমে যাচাই করা উচিত—বিশেষ করে যদি এটি বারবার ঘটে।
অন্তর্বাসে দাগ দেখলেই কি সংক্রমণ ধরে নিতে হবে?
না।
অন্তর্বাসে শুকিয়ে যাওয়া স্বাভাবিক স্রাবও দাগ তৈরি করতে পারে। আবার প্রস্রাবের সামান্য অংশ, ঘাম বা অন্যান্য স্বাভাবিক তরলের কারণেও অন্তর্বাসে দাগ দেখা যেতে পারে।
তাই শুধুমাত্র একটি দাগ দেখে কোনো রোগের নাম বলা সম্ভব নয়।
গুরুত্বপূর্ণ হলো দাগের সঙ্গে অন্য কোনো উপসর্গ আছে কি না।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত?
নিচের লক্ষণগুলো থাকলে একজন গাইনোকলজিস্ট বা চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা ভালো:
- অস্বাভাবিক বা তীব্র দুর্গন্ধ
- প্রচণ্ড চুলকানি বা জ্বালাপোড়া
- যোনিপথে ব্যথা বা তলপেটে ব্যথা
- অস্বাভাবিক রঙের স্রাব
- সহবাসের সময় ব্যথা
- প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া
- মাসিকের বাইরে বারবার রক্তপাত
- উপসর্গ বারবার ফিরে আসা
নিজের ইচ্ছায় ওষুধ ব্যবহার করবেন না
অস্বাভাবিক স্রাব দেখলেই নিজের মতো করে অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্টিফাঙ্গাল বা অন্য কোনো ওষুধ ব্যবহার করা উচিত নয়।
কারণ একই ধরনের উপসর্গের পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। সঠিক কারণ জানা গেলে তবেই উপযুক্ত চিকিৎসা নির্বাচন করা সম্ভব।
এছাড়া যোনিপথ পরিষ্কার করার জন্য অতিরিক্ত সাবান, সুগন্ধি স্প্রে বা douching ব্যবহার করাও এড়িয়ে চলা ভালো।
শেষ কথা
অন্তর্বাসে সাদা বা হালকা দাগ দেখা গেলেই আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই—অনেক সময় এটি স্বাভাবিক যোনি স্রাব শুকিয়ে যাওয়ার ফল হতে পারে।
কিন্তু যদি দাগের সঙ্গে অস্বাভাবিক গন্ধ, চুলকানি, জ্বালাপোড়া, ব্যথা, অস্বাভাবিক রং বা রক্তপাত থাকে, তাহলে সেটিকে সাধারণ স্রাব ভেবে উপেক্ষা করবেন না।
শুধু ছবি দেখে রোগ নির্ণয় করা যায় না। উপসর্গ থাকলে সঠিক কারণ জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।