Health

২৮ বছর বয়সী যুবকের কিডনিতে প্রদাহ, প্রতিদিন রসুন খাওয়ার পর ৫ মাসে চিকিৎসকরা রিপোর্ট দেখে হতবাক

“রসুন একটি মূল্যবান ওষুধ”—এমন বিশ্বাস থেকে অনেকেই এটিকে “প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক” বলেও মনে করেন। এমনকি কেউ কেউ বিশ্বাস করেন, রসুন নাকি নানা ধরনের রোগ সারাতে পারে। এই বিশ্বাসেই এক যুবক প্রতিদিন রসুন খাওয়ার অভ্যাস শুরু করেছিলেন। কিন্তু ৫ মাস পর আবার চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পর যে ফলাফল সামনে এলো, তা ছিল একেবারেই অপ্রত্যাশিত।

২৮ বছর—জীবনের সবচেয়ে কর্মক্ষম সময়গুলোর একটি। অথচ চীনের জিয়াংসু প্রদেশের একজন আইটি প্রকৌশলী লি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে গিয়ে জানতে পারেন যে তার ক্রনিক নেফ্রাইটিস বা দীর্ঘস্থায়ী কিডনির প্রদাহ রয়েছে।

প্রযুক্তিপ্রেমী এই যুবক এরপর নিজের কিডনি সুস্থ করার জন্য ইন্টারনেটে নানা ধরনের “ঘরোয়া উপায়” খুঁজতে শুরু করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য খুঁজতে খুঁজতে একসময় তিনি বিশ্বাস করতে শুরু করেন যে “রসুন একটি মূল্যবান ওষুধ” এবং এটি একটি “প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক”, যা নাকি অনেক রোগ সারাতে পারে।

এরপর থেকে তিনি প্রতিদিন ৩ কোয়া কাঁচা রসুন খেতে শুরু করেন। শুধু তাই নয়, প্রায় প্রতিটি খাবারেই প্রচুর পরিমাণে কুচানো রসুন যোগ করতেন। এমনকি বাইরে হটপট খেতে গেলেও নিজের সঙ্গে আলাদা করে এক বাটি রসুন নিয়ে যেতেন।

এভাবে টানা ৫ মাস রসুন খাওয়ার পর তিনি আবার কিডনি পরীক্ষা করাতে যান।

রিপোর্ট দেখার পর চিকিৎসক অবাক হয়ে তাকে জিজ্ঞেস করেন:

“এই কয়েক মাসে আপনি আসলে কী করেছেন?”

Chàng trai 28 tuổi bị viêm thận, ăn tỏi mỗi ngày, 5 tháng sau tái khám  khiến bác sĩ sững sờ

🧄 রসুন কি সত্যিই কিডনির প্রদাহ সারাতে পারে?

চিকিৎসকরা ব্যাখ্যা করেন, রসুনে allicin নামের একটি সক্রিয় যৌগ রয়েছে, যা রসুনের বিশেষ ঝাঁঝালো গন্ধের জন্য দায়ী।

Allicin-এর কিছু জীবাণুরোধী ও প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে এবং এটি মূত্রনালির সংক্রমণ প্রতিরোধে কিছুটা সহায়ক হতে পারে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে রসুন দিয়ে ক্রনিক কিডনি প্রদাহ বা দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ নিরাময় করা সম্ভব।

বরং কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পরিমাণে কোনো খাবার গ্রহণ করার আগে বিশেষভাবে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

রসুনে যথেষ্ট পরিমাণ পটাশিয়াম রয়েছে। প্রতি ১০০ গ্রাম রসুনে প্রায় ৬২০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম থাকতে পারে।

যাদের কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেছে, তাদের শরীর অতিরিক্ত পটাশিয়াম স্বাভাবিকভাবে বের করে দিতে না পারায় রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে।

অতিরিক্ত হাইপারক্যালেমিয়া গুরুতর হলে হৃদস্পন্দনের ছন্দে সমস্যা তৈরি করতে পারে এবং এটি জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করতে পারে।

তাই কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে “স্বাস্থ্যকর খাবার” মনে করে কোনো একটি খাবার অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া নিরাপদ—এমন ধারণা ঠিক নয়।

কিডনি রোগীদের কোন খাবারগুলোতে সতর্ক থাকা উচিত?

🧂 ১. অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার

আচার, লবণযুক্ত শুকনো খাবার, ধূমায়িত বা প্রক্রিয়াজাত মাংস, ক্যানজাত খাবার ইত্যাদিতে প্রচুর সোডিয়াম থাকতে পারে।

অতিরিক্ত সোডিয়াম শরীরে পানি ধরে রাখতে পারে এবং এর ফলে ফোলা ও রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এমনকি যেসব খাবার দেখতে তুলনামূলকভাবে সাধারণ বা স্বাস্থ্যকর মনে হয়—যেমন পাউরুটি বা ইনস্ট্যান্ট নুডলস—সেগুলোতেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে লুকানো সোডিয়াম থাকতে পারে।

🫘 ২. প্রোটিনের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা

সয়া, টোফু ও সয়া দুধের মতো উদ্ভিদভিত্তিক খাবার পুষ্টিকর হলেও কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে মোট প্রোটিন গ্রহণের পরিমাণ ব্যক্তিভেদে নিয়ন্ত্রণ করতে হতে পারে।

বিশেষ করে কিডনি রোগের নির্দিষ্ট পর্যায়ে কতটা প্রোটিন খাওয়া উচিত, তা চিকিৎসক বা নিবন্ধিত ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করা ভালো।

🦐 ৩. অতিরিক্ত পিউরিনযুক্ত খাবার

কিছু সামুদ্রিক খাবার ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গে পিউরিনের পরিমাণ বেশি থাকতে পারে।

পিউরিন ভেঙে শরীরে ইউরিক অ্যাসিড তৈরি হয়। যাদের ইউরিক অ্যাসিড বা গাউটের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে খাদ্যাভ্যাসের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

6 thực phẩm đại kỵ không nấu chung với tỏi: Bà nội trợ cần biết kẻo hại cả  nhà

কিডনি ভালো রাখতে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ নীতি

১. প্রোটিনের পরিমাণ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রাখুন

কিডনি রোগের ধরন ও পর্যায় অনুযায়ী প্রতিদিন কতটা প্রোটিন খাওয়া উচিত, তা ভিন্ন হতে পারে। তাই নিজের ইচ্ছায় প্রোটিন অত্যন্ত কমিয়ে দেওয়া বা বাড়িয়ে দেওয়া উচিত নয়।

ডিম, দুধ, চর্বিহীন মাংসসহ বিভিন্ন প্রোটিনের উৎস বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসক বা ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

২. পর্যাপ্ত কিন্তু অতিরিক্ত নয়—এমন পরিমাণে পানি পান করুন

সব কিডনি রোগীর জন্য প্রতিদিন একই পরিমাণ পানি প্রয়োজন হয় না।

কিছু রোগীর ক্ষেত্রে স্বাভাবিক পরিমাণ পানি পান করা উপকারী হলেও, কিডনির কার্যক্ষমতা অনেক কমে গেলে বা শরীরে পানি জমার সমস্যা থাকলে অতিরিক্ত পানি ক্ষতিকর হতে পারে।

তাই ১.৫–২ লিটার পানি সবার জন্য বাধ্যতামূলক—এমন নিয়ম নেই। আপনার কিডনির অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করাই নিরাপদ।

৩. নিয়মিত কিডনি পরীক্ষা করুন

কিডনি রোগের ক্ষেত্রে নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।

Creatinine, eGFR এবং প্রস্রাবে protein/albumin-এর মতো পরীক্ষাগুলো কিডনির কার্যক্ষমতা মূল্যায়নে ব্যবহৃত হতে পারে।

শুধু প্রস্রাবের ফেনা দেখে কিডনির অবস্থা নিশ্চিত করা যায় না।

৪. স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বজায় রাখুন

অতিরিক্ত লবণ কমানো, রক্তচাপ ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখা, ধূমপান এড়ানো, নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম করা এবং পর্যাপ্ত ঘুম—এসব অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পর তার অবস্থা ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হয়

চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস ও চিকিৎসা পদ্ধতি পরিবর্তন করার পর ওই যুবকের কিডনির বিভিন্ন সূচক ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হতে শুরু করে।

তার ঘটনা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে করিয়ে দেয়—

কোনো একটি খাবারকে “প্রাকৃতিক ওষুধ” মনে করে রোগের চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।

রসুন একটি সাধারণ ও পুষ্টিকর খাবার হতে পারে। কিন্তু রসুন কোনো কিডনি রোগের চিকিৎসার বিকল্প নয়।

একটি খাবার স্বাস্থ্যকর হলেও, অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া সবসময় উপকারী নয়। বিশেষ করে যাদের দীর্ঘস্থায়ী কোনো রোগ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

“প্রাকৃতিক” মানেই “সবার জন্য নিরাপদ”—এমন নয়।

কিডনির রোগ থাকলে নিজের মতো করে কোনো খাবার বা ঘরোয়া চিকিৎসা শুরু করার বদলে সঠিক পরীক্ষা, চিকিৎসা এবং ব্যক্তিগত খাদ্য পরিকল্পনাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

-

You Might Also Enjoy